রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ মাঘ ১৪৩২

Bangla Tribune

সকল বিভাগ
আপডেট এখনই

২০০৮ সালে দেশত্যাগের ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাত থেকেই অপেক্ষা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। রাস্তায় পাটি বিছিয়ে কম্বল জড়িয়ে অবস্থান করছেন তারা। উদ্দেশ্য কেবল দলের নেতাকে এক নজর দেখা।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় সরেজমিন অবস্থান করে এই চিত্র দেখা যায়।

তারেক রহমান দেশে পৌঁছাবেন বাংলাদেশ সময়ে বেলা আনুমানিক বেলা ১২টার দিকে। কিন্তু বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগের দিন থেকেই আসতে শুরু করেছেন তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার স্থান রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায়। দীর্ঘদিন পরে দলের বর্তমান কাণ্ডারি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে আসার এই মুহূর্তকে উদযাপন করতে কার্পণ্য করেনি সাধারণ এই নেতাকর্মীরা। সরাসরি এক নজর দেখার অপেক্ষায় রাস্তায়, রাস্তার পাশে, রাস্তার বিভাজকে শুয়ে-বসে পার করে চলেছেন কনকনে শীতের রাত।

রাস্তায় পাটি, পলিথিন বিছিয়ে পাতলা কম্বল গায়ে জড়িয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায় নেতাকর্মীদের।  কেউ কেউ আবার সড়ক বিভাজকে গাছের ফাঁকে নিজেদের শোবার জায়গা করে নিয়েছেন। কেউবা আগুন জ্বালিয়ে চেষ্টা করে চলেছেন নিজেকে উষ্ণ রাখার। কিন্তু কেউই চলে যাচ্ছেন না। শীত যেনো হার মেনেছে এই নেতাকর্মীদের কাছে।

কেরানীগঞ্জ থেকে আসা শাহজাহান মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ১৭টা বাসে করে কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছি। রাত ১২টার দিকে এসে পৌঁছেছি। কী যে ভালো লাগছে তা বোঝানো যাবে না। নেতাকে একনজর দেখে, তবেই বাসায় যাবো। তার আগে এই জায়গা থেকে যাচ্ছি না।’

নেতা-কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় শুয়ে-বসে পার করছেন কনকনে শীতের রাতনেতা-কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় শুয়ে-বসে পার করছেন কনকনে শীতের রাত নওগাঁ থেকে আসা নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে আসছেন, যেটার অপেক্ষায় আমরা ছিলাম এতদিন। তিনি আমাদের পথ দেখাবেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। তিনি নিজের মায়ের কাছে, নিজের মাটিতে সুস্থভাবে ফিরে আসবেন এই দোয়া করছি। তার ভাষণ শুনে আমরা আবার ফিরে যাবো এলাকায়।’

সুজন মিয়া নামের আরেক তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী এসেছেন সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে আজ সকালে। সারাদিন আত্মীয়ের বাসায় থাকলেও কাছে সরাসরি নেতাকে একবার দেখার জন্য সন্ধ্যায় মঞ্চের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছেন। শরীরে ক্লান্তি দূর করতে পুরো শরীরে কম্বল জড়িয়ে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় এখানে এসেছি মঞ্চের একেবারে কাছাকাছি থাকার জন্য। যাতে নেতাকে কাছ থেকে দেখতে পারি। এজন্যই এখানে রাত কাটিয়ে দিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকায় পৌঁছে প্রথমেই ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত নিজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান। ওই অনুষ্ঠানে একমাত্র বক্তা হিসেবে তিনি বক্তব্য দেবেন। পরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

পরদিন শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিনে সম্প্রতি নিহত শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করারও কথা রয়েছে।

এদিকে, তারেক রহমানের সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর উপস্থিতি হবে বলে দলটির প্রত্যাশা। ইতোমধ্যে সংবর্ধনাস্থলে দলে দলে নেতাকর্মীরা এসে পৌঁছেছেন।

তারেক রহমানের  এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে  রাজধানীতে দেখা গেছে বাড়তি নিরাপত্তা। সড়কে বেড়েছে পুলিশের চেকপোস্ট সংখ্যাও। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই এই বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দে‌শে ফেরাকে কেন্দ্র ক‌রে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) একগুচ্ছ ট্রাফিক নির্দেশনাও দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়ে‌ছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তারেক রহমানকে অভ্যর্থনাকারীরা কোনও ব্যাগ, লাঠি ইত্যাদি বহন করতে পারবেন না। তারেক রহমানের গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারবেন না। মোটরসাইকেল নিয়ে কোনোক্রমেই গুলশান, বনানী থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান বা চলতে পারবেন না।