পাবলিক প্লেস-পরিবহনে তামাক ব্যবহার নিষেধ, অধ্যাদেশ অনুমোদন

তামাক ব্যবহারজনিত অকাল মৃত্যু ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি জারির লক্ষ্যে অবিলম্বে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ‘ভেটিং’ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুমোদিত অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে— দেশে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস যেমন, ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞার আওতায় নতুন করে ‘নিকোটিন পাউচ’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের পাশাপাশি সব প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান সরকারের নির্দেশনার শর্তাধীন করা হয়েছে। ‘পাবলিক প্লেস’ ও ‘পাবলিক পরিবহণ’-এর সংজ্ঞা ও অধিক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যে-কোনও মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সব প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করেন। জনস্বাস্থ্যের এই ঝুঁকি কমাতে ২০০৫ সালের বিদ্যমান আইনটিকে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী আরও যুগোপযোগী করতে এই সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই আইনের কার্যকর প্রয়োগ তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।