রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ মাঘ ১৪৩২

Bangla Tribune

সকল বিভাগ
আপডেট এখনই

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে আরও একটি ভাঙন দেখা যেতে পারে। জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ধর্মভিত্তিক দলের যে জোট ছিল, সেই জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে মাওলানা মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। আসনবণ্টন, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের নতুন করে বোঝাপড়া তৈরির কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জোটের একাধিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ কথা জানান।

দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির একটি বোঝাপড়া সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে এনসিপি বড় দল হিসেবে বেশি আসন চায়। পাশাপাশি আগে থেকে জামায়াত ২০০টি আসনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এসেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনি স্বার্থে এনসিপির সঙ্গে জোট করলে মামুনুল হক সেই জোট ত্যাগ করবেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা জানান, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জামায়াতের সঙ্গে মজলিসের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে। এতে আরও কয়েকটি দলের নেতারা ছিলেন। ওই বৈঠকে মজলিসের পক্ষ থেকে আসনবণ্টন, এনসিপির সঙ্গে জোট করলে কী পরিস্থিতি হতে পারে, এ নিয়ে আলোচনা হয়।

একজন নেতা জানান, আটদলীয় জোটের আসনবণ্টন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জামায়াত এককভাবে ১৮০ থেকে ২০০টি আসনে নির্বাচন করতে চায়। ইসলামী আন্দোলন চায় ১২০টি আসন। এক্ষেত্রে অন্য ছয়টি দলের কী হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অন্তত ত্রিশটি আসনে নির্বাচন করবে।

মজলিসের একটি নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, আটটি দলের জোটের প্রধানতম ইস্যু ছিল, নির্বাচনে এককভাবে ইসলামী দলগুলোর ভোটকে একটি বাক্সে আনা। এখানে তো জামায়াতকে ক্ষমতার আনার জন্য জোট করা হয়নি।

মঙ্গলবার জামায়াতের প্রভাবশালী একজন নেতার সঙ্গে এনসিপির কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়।

এনসিপির একজন প্রভাবশালী নেতা এই প্রতিবেদককে সাক্ষাতের বিষয়ে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এনসিপি নিশ্চিতভাবে জোট করেই নির্বাচনে যাবে। জামায়াতের সঙ্গেও আলোচনা আছে। তবে নিশ্চিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা এককভাবে নির্বাচন করতে পারবো না। আমরা জোটগতভাবেই নির্বাচন করবো। আমাদের ভিন্ন ভিন্ন টিম এসব নিয়ে কাজ করছে।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছে।

এই জোটের অন্যতম প্রধান একজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে উল্লেখ করেন, নেতৃত্ব না দিয়ে জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচনি জোট হতে পারে। এনসিপি ভোটে ফেলবে, এটি জামায়াতও জানে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন নেতা বুধবার রাতে জানান, আট দলের অন্যতম দল ইসলামী আন্দোলনের আমিরকে জোটত্যাগের বিষয়ে অবহিত করতে মজলিসের শীর্ষনেতার নির্দেশনা রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে জামায়াত, এনসিপির একাধিক নেতাকে ফোন করা হলে পাওয়া যায়নি। পরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘নির্বাচনি আসন বণ্টন নিয়ে আট দলের এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে। আমাদের নেতৃত্ব নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই জোটে থাকা, না থাকা নির্ভর করছে।’